বুধগ্রহের গতি কিছুটা অন্যরকম

বুধগ্রহের গতি কিছুটা অন্যরকম। গড় হিসেব করলে বুধগ্রহের এক দিনের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর ৫৮ দিন ১৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের সমান। অন্যদিকে বুধগ্রহের এক বছর পৃথিবীর ৮৮ দিনের সমান। কিন্তু মার্কারী যখন উপবৃত্তাকার পথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের কাছে চলে আসে, তখন এর সামনে এগোবার স্পিড কিছুটা বেড়ে যায়! আর তখনই ঘটে বিপত্তি! এক বছরের তুলনায় এক দিনের দৈর্ঘ্যই হয়ে যায় বড়!

নিউটনের গতিসূত্রের মাধ্যমে বুধের এই গতি কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছিল না। কিন্তু আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দ্বারাই বুধের এই অদ্ভুত গতি ব্যাখ্যা করে ফেললেন কোনরকম প্রাক্টিকাল এক্সপেরিমেন্ট ছাড়াই! তাঁর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হল Annalen der Physik (49, 769) জার্নালে।

কিন্তু রীতিমত কেউ তা আমলে নিল না। কেননা আপেক্ষিকতা তত্ত্বটা গুটিকয়েক ব্যক্তি ছাড়া অধিকাংশ রাঘব বোয়ালই বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু ১৯১৯ সালে যখন লন্ডনের রয়েল সোসাইটি সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত ফলিত পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে আইনস্টাইনের ব্যাখ্যাটির সত্যতা খুঁজে পেয়ে অফিশিয়ালি ভ্যারিফাই করে তা পাবলিকলি "সত্য" ঘোষণা করে দিয়েছিলেন তখন অনেকের চেহারাই নিশ্চয়ই বাংলার পাঁচের মত হয়েছিল। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য বার আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সত্যতা প্রমানিত হলেও অনেকেই এখন পর্যন্ত আইনস্টাইনের তত্ত্ব মেনে নিতে চান না।

#বিজ্ঞানের_ইতিহাসে_আজ
#এলবার্ট_আইনস্টাইন
#থিওরি_অব_রিলেটিভিটি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ