শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে বাদুরের পথচলাঃ

শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে বাদুরের পথচলাঃ

আমরা সবাই জানি বাদুর চোখে দেখতে পারে না। তাহলে বাদুর কিভাবে পথ চলে বা খাদ্য সংগ্রহ করে? ভাবার বিষয় তাইনা? 
পথে কোনো প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি কিংবা খাদ্য বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ে বাদুর শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যাবহার করে। 
বলে রাখা ভাল আমরা মানুষেরা কেবল 20Hz এর বেশি ও 20,000 Hz এর মধ্যে সীমাবদ্ধ শব্দই শুনতে পাই। ব্যাক্তিবিশেষে কিছুটা এদিক সেদিক হলেও হতে পারে। যেখানে কুকুরের সীমা প্রায় 35,000 Hz এর মতো এবং বাদুরের প্রায় 1,00,000 Hz 😮

বাদুর চলার পথে ক্রমাগত বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সামনে যদি কোনো প্রতিবন্ধক থাকে তাহলে তরঙ্গ সেখানে বাধা পেয়ে বাদুরের কাছে ফিরে আসে। বাদুর তার ফিরে আসা তরঙ্গের প্রকৃতি ও প্রতিধ্বনি ফিরে আসার শব্দের ব্যাবধান থেকে প্রতিফলিত প্রতিবন্ধকের অবস্থান ও আকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এবং চলার পথে সেই প্রতিবন্ধক পরিহার করে যেদিকে শব্দত্তোর তরঙ্গের প্রতিধ্বনি শুনতে পায় না সেদিকে কোনো প্রতিবন্ধক নেই বিবেচনা করে বাদুর সেদিক দিয়ে চলে।

অনেক সময় বৈদ্যুতিক লাইনে মৃত বাদুর ঝুলে থাকতে দেখা যায়। বৈদ্যুতিক লাইনের তারগুলো সরু ও সমান্তরাল হওয়ায় বাদুর অনেক সময় এগুলোর অবস্থান ও মধ্যবর্তী দুরত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে না। ফলে অনেক সময় এরা বৈদ্যুতিক লাইনের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক স্পর্শ করে ফেলে এতে বৈদ্যুতিক বর্তনী পূর্ণ হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে বাদুর মারা যায়।

আবার, এক ধরণের মাকড়শা আছে, যেগুলো শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যাবহার করে শিকার ধরে ফেলে। এ জাতীয় মাকড়শা 45000 Hz কম্পাঙ্গ পর্যন্ত তরঙ্গও অনুধাবন করতে পারে৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ